খেলার খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খেলার খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ, ২০১২

পারলো না বাংলাদেশ, স্তব্ধ দেশ


জহির ভূইয়া,
বার্তা২৪ ঢাকা, ২২ মার্চ:
দিনের হাসি কান্নায় রূপ নিলো রাতে। পারলো না বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র দুই রানে হেরে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি স্বাগতিকরা।

মিরপুরের পঞ্চম উইকেট, আর সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিট। ২৪ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে স্টেডিয়ামে, আর প্রেসিডেন্ট বক্সে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, হসপিটালিটি বক্সে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান এরশাদ সকলেই অপেক্ষার প্রহর গুণছেন সেই মুহূর্তটির।

১২ বলে ১৯, ৯ বলে ১৩, ৯ বলে ৬, ৬ বলে ৯, ৪ বলে ৭ রান দরকার জয়ের জন্য। হাতে আছে দুটি উইকেট। উত্তেজনায় কাঁপছে মিরপুরের স্টেডিয়ামের গ্যালারি। শেষদিকে ১ বলে ৪ রান হলে জয়! ১ বলে ১ রান আসে রিয়াদের ব্যাট থেকে। হেরে গেল বাংলাদেশ ২ রানে! হল না এশিয়া কাপ জয় করা। অধরা থেকে গেল এশিয়া কাপ। এতো কাছে গিয়ে ফিরে আসায় কষ্টটা বুঝি মুশফিকদের বেশি হয়েছে। তাই মাঠে কাঁদছিলেন মুশফিক। কান্নারই তো কথা। দর্শকই কেঁদেছে আর মুশফিক তো . . . ।

বাংলাদেশ ২৩৪ রান স্পর্শ করলেও বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন ইতিহাসের জন্ম হল না। এদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ২২ মার্চ স্মরণীয় একটি দিন হতে পারত। মিসবাদের দলকে হারিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হবার মিশন ব্যর্থ অল্পের জন্য। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। যতো বার এশিয়া কাপ আয়োজন হবে ততোবারই মিরপুরের উইকেটে পাকিস্তান, ভারত আর শ্রীলঙ্কাকে তুলধুনো করে বাংলাদেশের শিরোপার কাছাকাছি যাবার ঘটনা উচ্চারিত হবে।

দুর্দমনীয় বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটে হার না মানা একটি দলের নাম হতে পারত। ওয়েলডান বাংলাদেশ, সাবাস বাংলাদেশ আর টাইগারদের এগিয়ে চলা-এ শব্দ এখন আর মুশফিকের উচ্চতার সঙ্গে যেন খাপ খাচ্ছে না। এশিয়া কাপের আন্ডারডগ বাংলাদেশ জিতেছে শিরোপা! গ্রুপ ম্যাচে জেতা ম্যাচ এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই হেরেছে বাংলাদেশ ২১ রানে। তা না হলে ১৯৯৯ সালের  পর পাকদের দ্বিতীয় বার হারানো স্বাদ গ্রহনের জন্য ফাইনাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত না। পরের ম্যাচে ভারতকে ৫ উইকেটে, আর এরপর শ্রীলঙ্কাকে সেই ৫ উইকেটেই হারের স্বাদ বুঝিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ফাইনালে। সেই ফাইনালে বাংলাদেশের সামনে পরাশক্তি পাকিসত্মান ব্যাটিং, বোলিং কি ও ফিল্ডিং কোন বিভাগেই দাঁড়াতে পারেনি। কিন্তু পেসার শাহাদাতের ১৯ রানের খেসারত দিতে হল। মাঠে মুশফিক সাকিবকে জড়িয়ে ধরে সমানে কেঁদে চলেছেন। সাকিব, তামিম, নাসির সবার চোখেই পানি।

১৯৯৯ সালের সেই জয়ের পর এ যাবতকালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের বলার মতো তো তেমন কোনো রেকর্ড নেই। না সেটা জয়ের, না সেটা উইকেট শিকারের বা সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের। ১৩ বছর পর বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে কিছু করেছে সেটা সরাসরি এশিয়া কাপের ফাইনালে! স্মরণীয়ই নয় অতিস্মরণীয় ঘটনা হবার কথা ছিল।

বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিসত্মানের এ যাবত কালে আজই সর্বনিন্ম স্কোরটা হল। ৯ উইকেট ২৩৬, এটাই এখন বাংলাদেশে বিপক্ষে নিম্ন স্কোর। এর মুল কারিগর ছিলেন মাশরাফি, নাজমুল, সাকিব আর রাজ্জাক। মিরপুরের উইকেটে আজ পেসার আর স্পিন যৌথভাবে আক্রমণ করেছে পাকদের। কোমর সোজা করে দীর্ঘ সময় ব্যাট করার সুযোগ পায়নি। ওপেনিং ১৬ রানেই ভেঙ্গে দিলেন মাশরাফি। আর ওয়ানডাউনে নামা অভিজ্ঞ ইউনুস খানকে এলবি’র ফাঁদে ফেলেন নাজমুল। সেই শুরু।

তারপরও তৃতীয় উইকেটে মিজবা আর ওপেনার হাফিজ ৩৬রান যোগ করে ব্যাটিং ধ্বস সামলাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু মিসবাহ (১) শাহদাতের বলে নাসিরের থ্রোতে রান আউট হলে পাকদের বড় স্কোর গড়ার স্বপ্নে অন্ধকার নেমে আসে। সেই অন্ধকার আরও বেশিমাত্রায় বাড়তে থাকে চতুর্থ উইকেটে হাফিজ ব্যক্তিগত ৪০ রানে রাজ্জাকের বলে ক্যাচ দিলে। ৭০ রানে ৪ উইকেট! কিন্তু পঞ্চম উইকেটে ওমর আকমল আর হাম্মাদ জুটি যদি ৫৯ রান যোগ না করতেন তাহলে হয়তো পাকদের আজ আরো কম রানেই আটকানো যেত।

১২৯ রানে হাম্মাদ (৩০) আর ১৩৩ রানে ওমর আকমল (৩০) সাজঘরের পথে হাটা ধরলে পাকিস্তানের ড্রেসিং রুমে তখন হিমশীতল বাতাস বয়ে চলেছে। হাম্মাদ সাকিবের বলে আর উমর আকমল রিয়াদের বলে ফেরত যান। ১৩৩ রানে ৬ উইকেটের পতনের পর আফ্রিদি আর সরফরাজ আহমেদ সপ্তম জুটিতে ৪৫ রান যোগ করে দলকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচালেন। তবে আফ্রিদিকে ২২ বলে ৩২  রানে সাকিব নাসিরের হাতে ক্যাচে পরিণত না করলে স্কোর আরও বেড়ে যেত।

আফ্রিদি ফেরত যাবার পর সরফরাজ জুটি বাধেন ওমর গুলের সঙ্গে আর সাঈদ আজমলের সঙ্গে। এরা কেউ ৪ রানে বেশি যোগ করতে পারেনি। তবে ১০ উইকেটে সরফরাজ আর আইজাজ চিমা জুটি শেষ ওভারে শাহদাতের বলে ১৯ রান নিয়েই বেশি এগিয়ে যায়। ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩৬ রান। অলআউট হয়নি পাকিস্তান এটাই হতে পারে তাদের বড় পাওয়া।

২৩৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নামা বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম আর নাজিম জুটি ৬৮ রান এনে দেন। তবে আজো নাজিম উদ্দিন বেশি দূর যেতে পারলেন না। নাজিম ১০ রানে ফেরত গেলেন আফ্রিদির বলে ক্যাচ দিয়ে। কিন্তু তামিম টিকে ছিলেন বীরদর্পে। ওয়ানডাউনে নামা জহুরুল ইসলাম কোনো রান যোগ করার আগেই সাজঘরের পথে হাটা ধরলেন সাঈদ আজমলের বলে ক্যাচ দিয়ে।

তামিম তখন ক্যারিয়ারের ২৩ম ফিফটি করার পথে। যা কিনা তামিমের নামের পাশে লেখা হবে টানা ৪ ম্যাচে ফিফটি। যা এদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। অবশেষে তামিম ৪৮ বলে ৭টি চার দিয়ে ৫০ রান পূর্ণ করেন। ক্রিজে তামিমের পাশে নাসির হোসেন। এই জুটি যখন সেট হয়ে রানের গতি বাড়াতে শুরু করেন তখনই পেসার ওমর গুল আঘাত হানেন। ৬০ রান করা তামিম গুলের বলে ইউনুস খানের হাতে বন্দি হলে মিরপুরের দর্শক চুপ মেরে যায়। হারের আতংক পেয়ে বসে তখনই।

কিন্তু চতুর্থ উইকেটে নাসিরের সঙ্গী সেই সাকিব আল হাসান। যার টানা ৩ ম্যাচে স্কোর ৬৪, ৪৯, ৫৬। সেই সাকিব ৩ ম্যাচে ১৩৭ রান করা নাসিরের সঙ্গী করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাবার মিশনে নেমে পড়েন। এই জুটি যখন আফ্রিদি, সাঈদ আজমল আর গুলকে মোকাবেলা করছে তখন ২৫ ওভারে স্কোর ৮৬। ১৫১ রান দরকার। নাসির-সাকিবের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে তারাও যেন খানিকটা ভেঙ্গে পড়েছে।

তবে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে শক্ত হতে শুরু করে এই জুটি। এই জুটির টার্গেট ছিল উইকেট ধরে রেখে রানের গতি এগিয়ে নেয়া। সেটাই তারা করেছে। ৩০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর যখন ১০০, তখন ম্যাচ টি২০-তে রূপ নিয়েছে। কারণ ২০ ওভারে ১২০ বলে দরকার ১৩৬ রান। ১৬ বলের ব্যবধানে। এক পর্যায়ে সাকিব ব্যক্তিগত ২৭ রানে আর নাসির ৭ রানে ব্যাট করছেন, সাকিব রান আউটের হাত থেকে বেঁচে গেলে বড় একটি বাধা পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। কারণ এই চতুর্থ জুটির উপরই বাংলাদেশের এশিয়া কাপ জয়ের মূল ভিত্তি নির্ভর করছিল।

নাসির একটু বেশি বল ব্যয় করলেও সাকিব তা পূরণের চেষ্টা করেন। ৩৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৩২। ওভার প্রতি রান দরকার ৭ করে। কঠিন তবে কোনভাবেই অসম্ভব নয়। ৩৭ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১৪৯, সেখানে বাংলাদেশের ৩ উইকেটে ১৪২। তুলনার বিচারে তো বাংলাদেশ এগিয়ে। এক পর্যায়ে ৬৩ বলে ৮৬ রান দরকার পড়ে। ২৩ বলের পার্থক্য। এক সময় মনে হয়েছে শাহাদাতের দেয়া এক ওভারে ১৯ রানের কারণেই কি হারবে বাংলাদেশ! সাকিব তখন ২৫ম ফিফটির দরজায় দাড়ানো (৪৬)।

গুলের বল মিড উইকেট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে সাকিব ২৫ম ফিফটি পূরণ করেন ৭৭ বলে ৬ বাউন্ডারি দিয়ে। নাসির ৫৮ বল খেলে ২৭ রানে ব্যাট করছেন। স্বপ্ন তখনই জীবন্ত ছিল, যদি একটি ওভার এই জুটি তেরেফুরে মারতে পারে তাহলেই তো হয়ে যায়! পরের ওভারে সাঈদ আজমলের প্রথম বলেই সাকিব ছক্কা মেরে তা শুরু করে দিলেন। মানে তেরেফুরে মার্ক ব্যাটিং। ৫৩ বলে ৭১ রান প্রয়োজন। ভারতের বিপক্ষে সেই জয়ের মুহূর্তেগুলো সামনে চলে আসে। সেদিন তো হয়েছিল। আজ কেন হবে না! হাতে তো ৭ উইকেট অক্ষত ছিল! ৬৩ বলে ২৮ রান করে ক্যাচ দিয়ে নাসির সাজঘরের পথে যখন হাটা ধরেন তখন বাংলাদেশ জয় থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে।

চার উইকেটে ১৭০ ওভার ৪২.৩ ওভারে। ক্রিজে সাকিবের সঙ্গে মুশাফিক। এরপর রিয়াদ, রাজ্জাক, মাশরাফির বাটিং বাকি ছিল। কিন্তু বল তো কমে গেছে! গুল আর সাঈদের বল ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে লাগাতেই কষ্ট হচ্ছিল। ৪০ বলে ৫৯ রান সাকিব-মুশফিকের জন্য কঠিন হবার তো কথা নয়। কিন্তু সাকিব (৬৮) বোল্ড হয়ে গেলেন আইজাজ চিমার বলে। স্তব্ধ পুরো স্টেডিয়াম। ক্রিজে অধিনায়ক মুশফিক আর সহ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ৫ম জুটি। দরকার ৩০ বলে ৪৭ রান, ১৭ বলের ব্যবধান। পারবে কী মুশফিক-রিয়াদ জুটি! মুশফিক আইজাজ চিমার বলে বল আকাশে তুলে দিলেন ছক্কার আশায়। কিমত্ম বল বেশি উচুতে উঠে যায়। ফলাফল মুশফিক বন্দি হলেন নাসির জামসেদের হাতে। পুরো স্টেডিয়ামের দর্শক তখন গালে হাত দিয়ে বসে আছে। মনে হল শেষ আশার আলোটি বুঝি নিভে গেল। হল না বাংলাদেশের এশিয়া কাপের শিরোপা জয়।

যদিও বহুদিন পর দলের স্বার্থে মাশরাফি ব্যাটিং জ্বলকানি দেখাবার প্রয়োজন হল। কিন্তু মাশরাফি ঠিক মতো ব্যাটিং করতে পারছিলেন না। বাংলাদেশ ড্রেসিং রুমে তখন থমথমে পরিবেশ। কারও মুখে কথা নেই। পারবে কি বাংলাদেশ ২৪ বলে ৩৯ রান সংগ্রহ করতে! আর এশিয়া কাপে রানে না থাকা রিয়াদেরও কিছু একটা করার সময় এসে গিয়ে ছিল। ২২ বলে ৩৪ অসম্ভব তো কিছু নয়। হাতে তো ৪ উইকেট ছিল। ৩টি বাউন্ডারি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দিতে পারে। এমন যখন পরিস্থিতি তখনই গুলের বলে ব্যাক সাইডে তুলে দিলেন বল মাশরাফি। বল বাউন্ডারির বাইরে। বলে আর রানে ব্যবধান কমেছে কিছুটা। মিরপুরের দর্শক জেঁগে উঠে। কারণ আবারো চার মারলেন মাশরাফি। এই ঝলকানিই তো দরকার ছিল ঐ মুহূর্তে। ৪৭ম ওভারে গুল দিলেন ১৪ রান। স্কোর ৪৭ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ২১২ রান। ১৯ বলে ২৫ রান দরকার। মাশরাফি ৬ বলে ১৩ রানে আর রিয়াদ ৯ বলে ৯ রানে ব্যাট করে আশা জাগিয়ে রেখেছেন।

শেষ দিকে ২৩৭ রানের টার্গেটের কাছাকাছি ২৩৩ রানে গিয়ে ২ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। কারণ ১ বলে দরকার ছিল ৪ রান। স্ট্রাইকে থাকা বোলার শাহদাতের পক্ষে বাউন্ডারি মারা সম্ভব হয়নি। হেরে গেলে বাংলাদেশ তারপরও মিরপুরে দর্শক বাংলাদেশ, বাংলাদেশ চিৎকারে মুশফিকদের সান্ত্বনা দিয়েছে। বাংলাদেশ এশিয়ার দ্বিতীয় দল, এটাই কম কিসে!

বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

কাল মিরপুরে ঢাকা-চট্টগ্রামের অগ্নিপরীক্ষা

     কাল মিরপুরে ঢাকা-চট্টগ্রামের অগ্নিপরীক্ষা 

ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি: বিপিএলের দ্বিতীয় ভেন্যু চট্টগ্রামের নির্ধারিত ৮ ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। এই ৮টি ম্যাচের ফল বিপিএলের শীর্ষ ৪ দলের সেমিতে যাবার হিসাব-নিকেষের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। চট্টগ্রাম ভেন্যুর ফলের উপর ভিত্তি করেই কাল শুক্রবার থেকে আবার বিপিএলের দ্বিতীয় পর্বের যুদ্ধ মিরপুরে শুরু হবে। খুলনা আর বরিশাল বিপিএলে ৮টি করে ম্যাচ শেষ করেছে। রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম আর সিলেট ৭টি করে। পয়েন্টের হিসাবে ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে খুলনা। কিন্তু এক ম্যাচ কম খেলাতে রাজশাহীর সেমিতে যাবার সুযোগটা খুলনার তুলনায় এগিয়ে আছে।
মিরপুরের কাল সমান সংখ্যক ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সেমির লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম। খুলনা আর রাজশাহী সফলতা আয়ত্ত করেছে চট্টগ্রাম কিংসদের ঘরের মাঠে। যা নিজ মাঠে পারেনি চট্টগ্রাম। টানা দুই ম্যাচে হেরে গিয়ে চট্টগ্রাম এখন বিপিএলের তৃতীয় দলে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রামের ৪ ম্যাচে জয় আর ৩ ম্যাচে হার নিয়ে ৮ পয়েন্ট। ঘরের মাঠে দুই ম্যাচে ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে মানসিকভাবে অনেকটাই পেছনে পরা চট্টগ্রামের জন্য কালকের ম্যাচ একদিকে সেমির লড়াইয়ে টিকে থাকা লড়াই আর অন্যদিকে নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। অথচ ঢাকা ছাড়ার আগে শীর্ষে থেকেই হোম ভেন্যুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল আইকন তামিমের ‘কিংসরা’। ঘরের মাঠে টানা দুই হারের পর বদলে যাওয়া দৃশ্যপটে আমুল পরিবর্তন। চট্টগ্রাম হোম গ্রাউন্ডে যদি একটি ম্যাচেও জয় পেত তাহলে আজ ঢাকার বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হতো না।
সেমি যাবার পথে ঢাকা-চট্টগ্রামের কালকের ব্যাটে-বলে লড়াইটা রীতিমতো যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। কারণ ৮ পয়েন্ট নিয়ে উভয় দলই এখন সেমিতে যেতে একে অন্যের সামনে বাধা হিসাবে উপস্থিত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামের ম্যাচে যে দল জিতবে সেই সেমিতে যাবার পথে এগিয়ে যাবে। কারণ উভয় দলেরই ৩টি করে ম্যাচে বাকি আছে। কাল যে দল হেরে যাবে সে দলের একটি ম্যাচে পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ শেষ হয়ে যাবে।
এদিকে মাশরাফির ঢাকা শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছে। তবে ওপেনার ইরান নাজিরের ইনজুরিতে দলের পরিবর্তিত ওপেনার নিয়ে ইতোমধ্যেই চলছে হিসেব-নিকেষ। পরিপূর্ণ চেকআপ শেষে ডাক্তার ও দলের ফিজিও ইমরান নাজিরের অবস্থা ভালো বলেই রায় দিয়েছেন। এমন কথাই জানালেন ঢাকার মিডিয়া ম্যানেজার মিনহাজ উদ্দিন খান।
তিনি জানিয়েছেন,‘‘নাজির এখন সুস্থ। তবে আগামীকাল মাঠে নামতে পারবেন কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কাল সকালে ফিটনেস টেস্টের পরই আসলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’’ সেক্ষেত্রে আশরাফুলের সঙ্গে বিকল্প ওপেনার নিয়ে দলের টিম ম্যানেজম্যান্টের মাঝে চলছে ভাবনা-চিন্তা।
অন্যদিকে সন্ধ্যার ম্যাচে কাল সিলেটকে হারাতে পারলে সবার আগে সেমিফাইনালে টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে মুশফিকের দুরন্ত রাজশাহীর। ঢাকা ও চট্টগ্রাম দুই ভেন্যুতে পয়েন্ট টেবিলে রাজশাহী দ্বিতীয় সারিতে। আর চট্টগ্রাম কিংসরা তৃতীয় ও মাশরাফির গ্লাডিয়েটর্স ধরে রেখেছে চতুর্থ অবস্থান। চট্টগ্রামের মাটিতে দ্বিতীয় পর্বে মাশরাফির ঢাকা জয়ের ধারাবাহিকতায় ফিরেছে।
দিনে অপর ম্যাচে ২য় অবস্থানে থাকা দুরন্ত রাজশাহী খেলবে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে জয় বঞ্চিত সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষে। স্বাভাবিক হিসাবে রাজশাহী কালকের ম্যাচে ফেভারিট দল। অথচ ঢাকা ত্যাগের সময়ও রাজশাহী ছিল ৪র্থ সারিতে। টুর্নামেন্টের শুরুতে দুই হারের পর রাজশাহীকে নিয়ে যে শঙ্কা ছিল তা এখন অতীত ইতিহাস ছাড়া কিছু না। মাত্র ৭ ম্যাচে টানা ৫ জয় নিয়ে বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলে এখন দুরন্তরই আধিপত্য। আর কাল যদি জয়ে শেষ হয় ম্যাচ তবে সবার আগে সেমির টিকিট নিশ্চিত করবে দলটি।
পয়েন্ট টেবিল
দল ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট রানরেট
খুলনা রয়েলস ৮ ৫ ৩ ১০ +০.৬১৯
দুরন্ত রাজশাহী ৭ ৫ ২ ১০ -০.০৩৩
চট্টগ্রাম কিংস ৭ ৪ ৩ ৮ +০.৫৭২
ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স ৭ ৪ ৩ ৮ +০.৩৫৪
বরিশাল বার্নার্স ৮ ৪ ৪ ৮ +০.০৪৮
সিলেট রয়েলস ৭ ০ ৭ ০ -১.৮১২

 

আশা বাঁচিয়ে রাখল ঢাকা


              আশা বাঁচিয়ে রাখল ঢাকা

 

দুঃসাহস কাল হলো ইমরান নাজিরের। পেস বোলিংও খেলছিলেন হেলমেট না পরে, ট্রেগোর বাউন্সারে পুল করতে গি� দুঃসাহস কাল হলো ইমরান নাজিরের। পেস বোলিংও খেলছিলেন হেলমেট না পরে, ট্রেগোর বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে বল লাগল মাথায়! তবে ভাগ্য ভালো, গুরুতর কিছু হয়নি
প্রথম আলো
আগের রাতে সিলেট রয়্যালসের সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্টুয়ার্ট ল একটা সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন। যার সারমর্ম, সিলেট রয়্যালস যদি বাকি সব ম্যাচ জেতে আর অন্য দলগুলো হারতে থাকে, সেমিফাইনালে যাওয়ার একটা আলো জ্বলে উঠবে তাদের সামনে।
বিপিএলের বাকি অংশে ছক মেনে এভাবেই হবে, ল নিজেও এমনটা বিশ্বাস করতেন কি না সন্দেহ। করলেও তাঁর দল কাল সেই বিশ্বাসে পেরেক ঠুকে দিল। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের কাছে ১২.৫ ওভারেই ৮ উইকেটে ম্যাচ হেরে ল-র দেখানো অসম্ভব সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটাল দলটা। অন্যদিকে সহজ এই জয়ে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ধরে ফেলল চিটাগং কিংসকে। ৭ ম্যাচে দুই দলেরই চারটি করে জয়, পয়েন্ট ৮।
অলক কাপালিসহ দলের চার-পাঁচ ক্রিকেটারই নাকি ভাইরাস জ্বরের সঙ্গে লড়ছেন। ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে কাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তাই আগের চেয়েও দুর্বল দল নামাল সিলেট রয়্যালস। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বোলিংয়ের সামনে এই দলটা করতে পারল ১২৮ রান। ৫৩ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর পিটার ট্রেগো-নাঈম ইসলামের ৪১ রানের পঞ্চম উইকেট জুটিও পারেনি বড় স্কোর দিতে।
বরং যে রানটা দিল, তার অর্ধেকের বেশি ঢাকা পেরিয়ে গেছে দুই ওপেনার ইমরান নাজির ও মোহাম্মদ আশরাফুলের ৭৩ রানের জুটিতেই। ট্রেগোর বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়ে ইমরান নাজির মাঠ না ছাড়লে, ম্যাচ তারাই শেষ করে দিতেন কি না কে জানে। ৩৩ বলে ৪০ রান করে আশরাফুল আউট হওয়ার পর আজহার মেহমুদ ও কাইরন পোলার্ডের ঝোড়ো ব্যাটিং দ্রুত ম্যাচটাকে নিয়ে গেছে শেষ দৃশ্যের দিকে। তিন ছক্কায় মাত্র ৬ বলে অপরাজিত ২২ রান পোলার্ডের। ১৫ বলে ২৯ করেছেন আজহার।
সেমিফাইনালের স্বপ্নে নতুন রং চড়ানোর ম্যাচে ঢাকার জন্য বড় হতাশার খবর হতে পারত ইমরান নাজিরের মাথায় পাওয়া আঘাত। তবে ম্যাচ শেষে দলের মিডিয়া ম্যানেজার মিনহাজউদ্দিন খান জানালেন, স্থানীয় এক হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রাথমিকভাবে অবস্থা গুরুতর মনে হয়নি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হবে। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য চট্টগ্রামে এক রাত বেশিও থাকতে হতে পারে পাকিস্তানি এই ক্রিকেটারকে।
তার আগে আজ সেমিফাইনালের পুনর্জীবিত স্বপ্ন নিয়েই ঢাকা ফিরছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। কাল ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকেও মনে হলো অনেকটা নিশ্চিন্ত, ‘আমরা এমন একটা অবস্থায় ছিলাম, এই ম্যাচে হারলে অনেক দূরে সরে যেতাম। ম্যাচটা জিতে আমাদের খুবই ভালো হয়েছে। সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য এই ম্যাচে জিততেই হতো।’
পরশু সংবাদ সম্মেলন করে বিপিএলে ব্যর্থতার জন্য সিলেটবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সিলেট রয়্যালসের মালিকপক্ষ। কাল ব্যর্থতার ব্যাখ্যা দিতে ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনেও চলে এলেন ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান। বললেন, ‘প্রথম দুই তিন ম্যাচে হারার পরই আমাদের দলটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সে অবস্থা থেকে আমরা আর বের হতে পারিনি। এ ছাড়া টিম কম্বিনেশনেও সমস্যা থাকতে পারে।’ পাশেই বসা নাঈম ইসলাম অবশ্য দায় চাপালেন বিদেশিদের ঘাড়ে, ‘আমাদের দলে এমন কোনো ভালো বিদেশি ক্রিকেটার ছিল না যারা সাপোর্ট দিতে পারে। অন্য দলে বিদেশিরা ৬০-৭০ ভাগ সার্ভিস দিয়েছে। আমাদের দলে এক কামরান ভাই (কামরান আকমল) ছাড়া আর কোনো বিদেশি সেটা পারেনি।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট রয়্যালস: ২০ ওভারে ১২৮/৭ (ট্রেগো ৩৫, নাঈম ২৮, ইমরুল ১৪, নূর হোসেন ১৩*; রানা নাভিদ ৩/১৮, আজহার ২/২২, ইলিয়াস ১/২২, মাশরাফি ১/২৪)। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস: ১২.৫ ওভারে ১৩২/২ (আশরাফুল ৪০, ইমরান ৩১ আহত অবসর, আজহার ২৯, পোলার্ড ২২*; নূর হোসেন ১/২১, নাবিল ১/২৯)।
ফল: ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: আজহার মেহমুদ।

শেবাগ-ধোনির শীতল যুদ্ধ!


         শেবাগ-ধোনির শীতল যুদ্ধ!

আক্ষরিক অর্থেই শেবাগ-ধোনি যেন মুখোমুখি! আক্ষরিক অর্থেই শেবাগ-ধোনি যেন মুখোমুখি!
গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন দুজনই। কিন্তু মহেন্দ্র সিং ধোনি ও বীরেন্দর শেবাগের সম্পর্কটা যে এখন যথেষ্টই শীতল, এটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্রমেই। সত্যিই ভারতীয় দলে ‘ধোনি গ্রুপ’ আর ‘শেবাগ গ্রুপ’ বলে কিছু আছে কি না, বলা মুশকিল। তবে এটা অন্তত নিশ্চিত, দলটা আপাতত আর ‘সুখী পরিবার’ নেই।
দলে দ্বন্দ্বের গুজবে জোর হাওয়া লেগেছে তিন সিনিয়রের ফিল্ডিং নিয়ে ধোনির মন্তব্য ও শেবাগের জবাবে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বলা হচ্ছিল তরুণদের যথেষ্ট সুযোগ দিতেই টেন্ডুলকার-শেবাগ-গম্ভীরকে একসঙ্গে খেলানো হচ্ছে না। কিন্তু গত রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ধোনি বলেন, ‘তিন সিনিয়রকে একসঙ্গে খেলালে দলের ফিল্ডিংয়ে প্রভাব পড়ে। প্রতিপক্ষ ২০টা রান বেশি পেয়ে যায়, যা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে ব্যাটসম্যানদের ওপর।’ ধোনির এই মন্তব্য আলোচনার ঝড় তোলে। ভারতের সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকের অভিমত, ধোনির উচিত ছিল এসব ড্রেসিংরুমের ভেতরেই রাখা। অনেকে আবার বলেছেন, অধিনায়ক হিসেবে ধোনির অধিকার আছে নিজের যুক্তি তুলে ধরার।
ধোনিকে দেখিয়ে দিতেই যেন, পরশু মিড উইকেটে উড়ন্ত ডাইভে অসাধারণ এক ক্যাচ নেন শেবাগ (মাহেলা জয়াবর্ধনের)। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিন সিনিয়রের ফিল্ডিং নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে মৃদু হাসিতে শেবাগের উত্তর, ‘আমার ক্যাচটা আপনি দেখেছেন? আমরা গত ১০ বছর ধরেই একই রকম, কিছুই বদলায়নি।’
তবে যে ধোনি বলেছেন মন্থর ফিল্ডিংয়ের জন্য তিন সিনিয়রকে একসঙ্গে খেলানো সম্ভব নয়? এবার শেবাগ যেন আকাশ থেকে পড়লেন, ‘এমএস কী বলেছে এবং সংবাদমাধ্যমে কী তোলপাড় হচ্ছে, আমি এসবের কিছুই জানি না। আমি শুধু জানি, আমাদের তিনজনের সঙ্গে সে আলাদা করে কথা বলেছে। আমাদের বলেছে, আগামী বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে, তাই তরুণদের সম্ভব সর্বোচ্চ সুযোগ দিতে চায় খেলানোর। গত বিশ্বকাপে আমরা তিনজন একাদশে একই সঙ্গে খেলেছি ও জিতেছি। আমার মনে হয় না তিনজন একসঙ্গে খেললে সমস্যা আছে। এটা স্রেফ তরুণদের সুযোগ দেওয়ার ব্যাপার।’ ওয়েবসাইট।
পরশুই টুর্নামেন্টে প্রথমবার একসঙ্গে খেলেছেন তিন সিনিয়র। এটা নিয়েই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। নিষিদ্ধ থাকলেও ওই ম্যাচের একটা একাদশ টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে নাকি জমা দিয়েছিলেন ধোনি। ওই একাদশে ছিলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু শেবাগ একাদশে রেখেছিলেন তিন সিনিয়রকে, রাখেননি রোহিতকে। অধিনায়ক শেবাগের চাওয়ারই জয় হয়েছে শেষ পর্যন্ত।
ফিল্ডিংয়ের প্রসঙ্গটা ঘুরেফিরে বারবারই এসেছে সংবাদ সম্মেলনে। বিরক্ত শেবাগ একপর্যায়ে বললেন, ‘এটা আপনারা ধোনিকেই আবার জিজ্ঞেস করুন। ও আমাদের বলেছে তরুণদের বেশি সুযোগ দিতে চায়, ব্যস।’ ‘ফিল্ডিংয়ের মন্তব্য নিয়ে কি তবে ধোনির সঙ্গে কথা বলবেন?’—একজনের এই প্রশ্নের উত্তর শেবাগ যেভাবে দিলেন, ভেতরের অবস্থাটা অনেকটা পরিষ্কার তাতেই, ‘আমি কেন তার সঙ্গে কথা বলব? সে অধিনায়ক, দলের নেতা। যদি সে ও কোচ মনে করে টপ-অর্ডারে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলাবে, তাহলে আমার কোনো সমস্যা নেই। একাদশ বাছাইয়ের দায়িত্ব কোচ-অধিনায়কের। ওরা আমাকে বলে, “তরুণদের সুযোগ দিতে চাই, তুমি বিশ্রাম নাও,” আমি খুশি মনেই মেনে নেব।’

 

টেস্টের শিকার ওয়ানডেতে শিকারি


        টেস্টের শিকার ওয়ানডেতে শিকারি

 

হাসিটা ঠিক ধবলধোলাই করানোর মতো চওড়া হলো না কুকের হাসিটা ঠিক ধবলধোলাই করানোর মতো চওড়া হলো না কুকের
এএফপি
ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড। পাকিস্তানও। এই প্রথম টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করল কোনো দল। কোনো দলকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করে ওয়ানডেতে তাদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়াও এই প্রথম!
সিরিজ জয়ের পর ইংল্যান্ড শেষ ম্যাচে বেশ কটি পরিবর্তন এনেছিল একাদশে। অভিষেক হয় বাঁহাতি স্পিনার ড্যানি ব্রিগস ও জস বাটলারের। ব্রড-অ্যান্ডারসন-সোয়ানদের বিশ্রাম দিয়ে খেলানো হয় ডার্নবাখ-ব্রেসনানদের। তবু ইংলিশদের থামাতে পারেনি পাকিস্তান। ৪ উইকেটে জিতে ইংল্যান্ড সিরিজ জিতেছে ৪-০-তে। আগের তিন ম্যাচের চেয়ে পরশু একটু বেশিই লড়াই করতে পেরেছে পাকিস্তান। কিন্তু থামাতে পারেনি কেভিন পিটারসেনকে। ২৩৭ রান তাড়ায় একাই ১৩০ করেছেন পিটারসেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর ওয়ানডে সেঞ্চুরির দেখা না পাওয়া ব্যাটসম্যানই কিনা সেঞ্চুরি পেলেন টানা দুই ম্যাচে! ৮০.৭৫ গড়ে ৩২৩ রান ও অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্বের জন্য সিরিজ-সেরা অ্যালিস্টার কুক।
অসাধারণ বোলিং টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের ব্যাটিং-দুর্বলতা ঢেকে দিলেও বেরিয়ে এসেছে ওয়ানডে সিরিজে। পরশুর ২৩৭-ই ছিল সিরিজে তাদের সর্বোচ্চ। সর্বশেষ ২৯ ম্যাচে ২৫০ ছুঁতে পেরেছে তারা মাত্র তিনবার! ব্যর্থতার জন্য ব্যাটিংকেই দুষেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক, ‘আজ (পরশু) আমরা আগের চেয়ে অনেক ভালো খেলেছি, কিন্তু পিটারসেন ও ইংল্যান্ডকে থামানোর মতো যথেষ্ট ভালো খেলতে পারিনি। টপ-অর্ডার রান না পেলে জেতা মুশকিল। আমরা ভালো শুরু করেও কেউ বড় স্কোর গড়তে পারছি না। টেস্ট সিরিজের পর এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোয় ইংল্যান্ডকে অভিনন্দন। আমরা সামর্থ্যের ধারেকাছেও ছিলাম না।’
দার্শনিকসুলভ কথাবার্তা বললেন ব্যর্থতার জাল ছিঁড়ে আলোর দেখা পাওয়া পিটারসেন, ‘মানুষের জীবনের চাকাটাই এমন, কখনো খারাপ সময় আসবে, কখনো ভালো। যখন রান পাচ্ছিলাম না, তখনো বলে আসছিলাম, আমার ব্যাটিং খারাপ হচ্ছে না। স্রেফ একটা ভালো ইনিংসের ব্যাপার। ওপেনিংয়ে ব্যাট করাটা দারুণ উপভোগ করছি।’ ইংল্যান্ডের অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম নায়ক কুক অভিনন্দন জানালেন সতীর্থদের, ‘এই দেড় সপ্তাহ ছিল অসাধারণ। টেস্ট সিরিজের পর দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাটা ছিল বড় এক চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জে আমরা ভালোভাবেই জিতেছি। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়েছে।’
ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মের পুরস্কারও পেয়েছেন কুক। জায়গা পেয়েছেন টি-টোয়েন্টি দলে। ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে আজই, দুবাইতে। ওয়েবসাইট।

শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

এদের কিছু বলুন

                        এদের কিছু বলুন

 

বাংলাদেশ হারলে টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। কিন্তু যখন বিশ্বের ১ নম্বর ও ৩ নম্বর দলের এমন লজ্জাজনক পরাজয় হয় তখন আপনি কি বলবেন??????




























































বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

মাশরাফি বিন মুর্তজা লিখছেন প্রথম আলোয় ভালোই হয়েছে ফেরাটা

মাশরাফি বিন মুর্তজা মাশরাফি বিন মুর্তজা
প্রথম যখন বল হাতে নিই, বুক একটুও কাঁপেনি। মনে হয়নি, আবার যদি পড়ে যাই! আবার যদি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়! এর আগে ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরার সময় এই ভয়টা হয়েছে। এবার কেন জানি হয়নি। একটু ঝুঁকি নিলেই সবাই ‘সাবধান সাবধান’ বলে সতর্ক করে দিয়েছে। তবে আমার মনে এবার ও-রকম কিছু আসেনি।
বিমানের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা ছাড়াই চারটা ম্যাচ খেললাম। ভয় না থাকলেও প্রথম ম্যাচে একটু জড়তা ছিল, এতদিন পর ফিরছি...। প্রথম বলটা করার পর সেই জড়তাও কেটে যায়। ফিজিও আর বোলিং কোচের পরামর্শমতো আস্তে আস্তে পেস বাড়িয়েছি। সর্বশেষ ম্যাচটাতে তো কিছু বাউন্সারও দিলাম!
তবে লম্বা বিরতির পর ফিরেছি বলে এখনো বাড়তি কিছু করার চেষ্টা করছি না। রানআপে ছন্দ ঠিক রাখা, জায়গামতো বল ফেলা, লাইন-লেংথ ঠিক রাখা—এসবের ওপরই জোর দিচ্ছি বেশি। চার ম্যাচে ২৫ ওভার বল করে এই জায়গাটাতে নিজেকে সফলই বলব। অ্যাকশনে সামান্য পরিবর্তন আনায় কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা হচ্ছে। তবে যা করতে চেয়েছি, তা করতে পেরেছি বলে আত্মবিশ্বাসও বাড়ছে।
আমার জন্য সবচেয়ে ভালো হয়েছে ফিল্ডিংয়ে প্রায় পুরোটা সময় মাঠে থাকা। শুধু তো ১০ ওভার বল করাই কাজ নয়, ফিল্ডিংটাও খেলার অংশ। আর ৫০ ওভার মাঠে থাকতে পারলে ফিটনেসটারও পরীক্ষা হয়ে যায়। চার ম্যাচের প্রায় পুরোটাই ফিল্ডিং করতে পেরেছি মানে ফিটনেসে সমস্যা নেই। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ ফিটনেসের ওপর আর কিছু নেই। এ ছাড়া ব্যাটিংটাও খুব উপভোগ করছি। অনেক দিন ব্যাটিং করিনি। এক-দুটি বড় ইনিংস খেলার ইচ্ছা ছিল। সেটা না পারলেও যতক্ষণ উইকেটে ছিলাম, ভালোই লেগেছে।
আমি অবশ্য বেশি জোর দিচ্ছি বোলিংয়েই। প্রতিটি ম্যাচের পরই আরও ৬ ওভার বল করেছি। বোলিং শুরু করার পর থেকে প্রায় ১০০ ওভারের মতো বল করে ফেলেছি। বিপিএলেও পরিকল্পনা আছে, ম্যাচের ৪ ওভারের বাইরে প্রতিদিন বাড়তি ৬ ওভার করে বল করা। সে ক্ষেত্রে এশিয়া কাপের আগে দুই-আড়াই শ ওভার বল করা হয়ে যাবে। এটা যদি ঠিকঠাকভাবে করে যেতে পারি এবং সঙ্গে দু-একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলি, আশা করি, এশিয়া কাপের আগেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় চলে আসব।
প্রিমিয়ার লিগের মতো বিপিএলও আমার ভালোভাবে খেলায় ফেরায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আশা করি। বিপিএলে আমি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের অধিনায়ক। এর আগে জাতীয় দলের অধিনায়কও হয়েছিলাম। এর পরের ঘটনা তো আপনাদের জানা-ই। অধিনায়কত্ব তাই আমাকে আর আবেগতাড়িত করে না। নানা বিপর্যয় মেনে নিতে নিতে আমার এখন এমন অবস্থা, অনেক সময় অনুভূতি জিনিসটাই যেন খুঁজে পাই না। আর ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের অধিনায়ক আমি যত না নিজের ইচ্ছায় হয়েছি, তার চেয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের ইচ্ছাতেই বেশি।
ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস আমার ওপর আস্থা রেখেছে, সে জন্য ধন্যবাদ। তবে আমার কাছে অধিনায়কত্বের চেয়ে ভালো খেলাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পারফর্ম করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়াটাকেই আমি অধিনায়কত্বের মূল কাজ বলে মনে করি।
দল হিসেবে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস খুবই ভালো, বলতে পারেন বিপিএলের সেরা দলটাই আমাদের। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে আমাদের দলটা খুব ব্যালান্সড। তবে টি-টোয়েন্টিতে মিডল অর্ডারকেই দায়িত্ব নিতে হবে বেশি। বোলিংয়েও বৈচিত্র্য আছে। আমাদের সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করছে এই কন্ডিশনে এসে বিদেশি খেলোয়াড়দের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ওপর। সঙ্গে দেশি খেলোয়াড়েরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলেই হবে। আমাদের আশরাফুল আছে। ফর্মে থাকলে ওর চেয়ে ভালো আর কে আছে!
বিপিএল নিয়ে একটা কথা বলে শেষ করতে চাই। অনেকেই বিপিএলকে বাঁকা চোখে দেখছে। আমিও মানি, সবার আগে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট। ক্রিকেট-উন্নত দেশ হতে হলে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেই জোর দিতে হবে বেশি। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ভালো হলে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে খেলা এমনিতেই ভালো হবে। কিন্তু তাই বলে বিপিএলকে বাঁকা চোখে দেখার কিছু নেই।
আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ড্রেসিংরুমে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার। কাছ থেকে দেখেছি বড় বড় খেলোয়াড়দের চালচলন। আমাদের দেশের সব ক্রিকেটারের পক্ষে তো আইপিএলে খেলা সম্ভব নয়। বিপিএল তাদের সেই সুযোগ করে দেবে। একই ড্রেসিংরুমে থেকে তারা দেখবে ক্রিস গেইল, মুত্তিয়া মুরালিধরন, সনাৎ জয়াসুরিয়াদের। তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। আর কিছু না হোক, এটাই বা কম কী!

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

পাকিস্তানের ভয়ে ভীত ভারত!

পাকিস্তানের ভয়ে ভীত ভারত!

১৫৭ রানের ইনিংসের পথে পাকিস্তানের আজহার আলী

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ভেঙে যাওয়া ক্রিকেট সম্পর্ক জোড়া না লাগার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ কী? ভয়। ভয় পেয়েই পাকিস্তানের সঙ্গে খেলছে না ভারত! তবে জঙ্গি হামলার ভয় এটি নয়। কারণ পাকিস্তান তো ভারতের বিপক্ষে নিরপেক্ষ ভেন্যু বা ভারতের মাটিতেই খেলতে উদগ্রীব। ভয়টা নাকি পাকিস্তানের সঙ্গে হেরে মানসম্মান খোয়ানোর। যেনতেন কেউ নন, এমনটা ভাবছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট-প্রধান জাকা আশরাফ।
ভারত দোহাই দিচ্ছে ব্যস্ত সফরসূচি আর সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন না পাওয়াকে। কিন্তু গত অক্টোবরে পিসিবির প্রধানের দায়িত্ব নেওয়া আশরাফের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট মাঠে দুই দেশের বিপরীতমুখী পারফরম্যান্সেই নাকি ভারত ভয় পেয়ে গেছে। কাল দুবাইয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘সম্ভবত আমাদের দল যেভাবে খেলছে ও তাদের দল অস্ট্রেলিয়ায় যেভাবে খেলেছে তাতেই তারা ভয় পেয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তাদের হার অতটা আবেগ হয়তো জড়িয়ে নেই, কিন্তু পাকিস্তানের কাছে হারটা হবে আবেগপূর্ণ।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে হারে সমর্থকদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়েই নাকি বিসিসিআই ভয় পাচ্ছে, ‘ভারতের ক্রিকেট সমর্থকেরা তখন বোর্ডের ওপর চড়াও হবে। তাই আমার মনে হয়, আমরা যেভাবে খেলছি তাতে তারা ভয় পেয়ে গেছে।’
পিসিবির সব অনুরোধেই না করে দিয়েছে বিসিসিআই। তবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে খেলার জন্য পাকিস্তান কতটা উদগ্রীব, সেটা প্রকাশ পেয়েছে জাকা আশরাফের কথাতেই, ‘আমরা তাদের সঙ্গে যেকোনো মুহূর্তে খেলার জন্যই প্রস্তুত। তারা আজ হ্যাঁ বললেই ইংল্যান্ড সিরিজের পর এই আরব আমিরাতেই আমরা খেলতে পারি। কিন্তু তারা খেলতে চায় কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা তাদেরই ব্যাপার।’

হার দিয়ে সিরিজ শুরু ভারতের

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের এই আনন্দ থেকেছে ম্যাচ শেষেও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের এই আনন্দ থেকেছে ম্যাচ শেষেও
ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্নে গত শুক্রবার জয়ের বন্ধ্যাত্ব কেটেছে। টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের ৮ উইকেটের জয়টা ছিল বিদেশের মাটিতে ১৭ ম্যাচ পর! তবে স্বস্তির রেশ কাটতে না-কাটতেই আজ আরেকটা হারের স্বাদ পেয়েছে ভারতীয় দল।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের হার ৬৫ রানে। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বৃষ্টি খেলার বড় একটা সময় কেড়ে নেওয়ায় ৫০ ওভারের খেলা নামিয়ে আনা হয় ৩২ ওভারে। নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেটে ২১৬ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক দল। জবাবে ২৯.৪ ওভারে ১৫১ রান তুলতেই গুটিয়ে যায় মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ২১৬/৫ (৩২/৩২ ওভার)
ওয়েড ৬৭, ডেভিড হাসি ৬১*
বিনয় কুমার ২১/৩
ভারত: ১৫১/১০ (২৯.৪ ওভার)
কোহলি ৩১, ধোনি ২৯
ম্যাকাই ২০/৪
টস: ভারত
সূত্র: কামাল।

আফ্রিদি বিপিএলে খেলবেন না !

শহীদ আফ্রিদি নাকি এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তিনি আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে খেলবেন না। আজ রোববার পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন পত্রিকার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএনআই এই তথ্য জানিয়েছে।
বিপিএলের নিলামে আফ্রিদিকে সর্বোচ্চ সাত লাখ মার্কিন ডলার মূল্যে কিনেছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। কথা ছিল তিনি বিপিএলের একেবারে শেষের দিকে দু-একটি ম্যাচে অংশ নেবেন। তবে এই মুহূর্তে দেশের হয়ে খেলাকেই আফ্রিদি প্রাধিকার দিচ্ছেন বলে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে। বিপিএলের সময়টাতে পাকিস্তানের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামার কথা।
এদিকে কিছুদিন আগে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার প্রথম আলো অনলাইনকে বলেছিলেন, আফ্রিদির সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই নিলামে তাঁকে কেনা হয়েছিল। তিনি আরও বলেছিলেন, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস জানে যে বিপিএলের সময়ই ইংল্যান্ড-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ হওয়ার কারণে আফ্রিদিকে বেশির ভাগ ম্যাচে পাওয়া যাবে না। তবে আফ্রিদি নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন ২৭ ফেব্রুয়ারির পর ম্যাচগুলোতে তিনি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে খেলবেন।
এদিকে আফ্রিদি পুনরায় বিপিএল নিলামের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হওয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিপিএল নিলামের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হওয়ায় আমি খুব খুশি। এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। বিপিএলে খেলতে পারলে খুবই ভালো লাগত কিন্তু এই মুহূর্তে পাকিস্তান দলের হয়ে খেলাকেই আমি প্রাধান্য দিচ্ছি।’ এএনআই।